নজরুল ইসলাম, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :চৈত্রের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের পথঘাট।
মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত জেলার সর্বত্র ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। ভোর থেকে হিমেল বাতাসের কারণে শীত অনুভূত হয়। ভোর রাত থেকে বৃষ্টির মত কুয়াশা ঝড়তে থাকে। ঘন কুয়াশার কারণে সামান্যতম দুরত্বে চলাচল করতে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়ক মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে যানবাহন গুলোকে। সকাল থেকে সড়ক মহাসড়কে মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। বাইরে বের হলেও অনেককে হালকা শীতের কাপড় গায়ে দিতে দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের দেখা মেলায় কাঙ্খিত উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত কয়েকদিন ধরে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে হালকা শীত অনুভূত হয়। রাত যতই গভীর হয় ততই যেন ঠান্ডার প্রকোপ বাড়তে থাকে।
এদিকে, বুধবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকবছরেও এমন কুয়াশা আর ব্যাতিক্রম আবহাওয়া তারা দেখেন নি। আবহাওয়ার কারণে জ্বর, সর্দি সহ নানা রোগ বালাই দেখা দিয়েছে।
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের নলেহাপাড়া এলাকার কৃষক ধনেশ চন্দ্র রায় (৬০) বলেন, আমি বুঝতে শেখার পরে থেকে এমন আবহাওয়া কখনো দেখিনি। আজকে সকাল থেকে খুবই ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা। গ্রামে একটা কথার প্রচলন আছে মহিষের ঠান্ডা বা শীত চৈত্র মাসে। সেই কথারই যেন প্রতিফলন ঘটেছে।
উপজেলার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিমেষ রায় বলেন, সকাল বেলা স্থানীয় শিক্ষকের কাছে গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে বের হয়েছি। কিন্তু আজকে এত শীত করবে ভাবতে পারিনি। শীতের কাপড় গায়ে না জড়িয়ে বের হওয়াতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।
আর আবহাওয়া অফিস বলছে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০-৩৫ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬-১৮ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করছে। আকাশে মেঘের উপস্থিতিতে আর বাতাসে ধুলিকনা কুয়াশার পরিমাণ বাড়িয়েছে।
তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আকাশে মেঘ থাকার কারণে কুয়াশা হয়ে ঝড়েছে। সেই সাথে বাতাসের আদ্রতা কম থাকা ও বায়ুতে ধূলিকনার উপস্থিতি বেড়েছে। আরো কয়েকদিন চলতে পারে এ ধরনের তাপমাত্রা।